আমি কিভাবে শিখেছি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ২০১০-২০১৫

how i start learning SEO

 

আসসালামুআলাইকুম, আশা করি আল্লাহ্‌র রহমতে সকলেই অনেক ভালো আছেন।

অনেক কাজের চাপের গভীরে আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাকেও অনেক ভালো রেখেছেন।

আমরা ব্লগিং, অ্যাডসেন্স এবং অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যেদিকেই যেতে চাই না কেন, এসইও না জানলে কোন ভালো ফলাফল নাই। পোস্টের টাইটলে দেখে কেউ চিন্তা করবেন না যে আমি এসইও সবই জানি। নিজেকে এসইও এক্সপার্ট দাবী করার সাহস কোনদিন হয় নাই।

কেননা এসইও যেমন সহজ, তেমন কঠিন। আমি এখনো প্রতিনিয়তই শিখে যাচ্ছি। হয়ত বিগত ৫ বছরে এসইও নিয়ে ৫০% এর উপরে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি নাই। শেখার নেশায় এখনো ওয়ার্ল্ড এর এসইও দাদাদের লেখাগুলো আপডেট পড়ি।

কাজেই আমার শেখার এখনো অনেক বাকি আছে। কিন্তু আমার মতো একজন নিরুপায়, অসহায় মানুষ কিভাবে এসইও নিয়ে কিভাবে এতদিন যাবত শিখে যাচ্ছি এবং আজও শিখতেছি। এসব নিয়ে লেখার ইচ্ছা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমি চেষ্টা করবো একেবারে শুরুটা কিভাবে স্টার্ট করেছিলাম, সেখান থেকেই। তো চলুন কয়েক বছর পিছনে ফিরে যাওয়া যাক।

 

# এসইও কি ?

এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। সবাই যা জানে, আমিও সেটা পড়েই শিখেছি। তারপরে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছি।

সহজ ভাষায় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এমন একটা প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট, কোম্পানি সাইট কিংবা ব্লগ সাইটকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে নির্দিষ্টভাবে প্রথম পাতায় জায়গা দখল করানো যায়।

 

# আমি কেন শিখেছি এসইও ?

ওইসময়ের চিন্তাভাবনা বাংলায় বলি উদ্দেশ্য হচ্ছে টাকা কামানো 😉

এ ইচ্ছা হওয়ার পিছনে মূল কারন ছিল, আমি যখন প্রথম জানতে পারি আউটসরসিং করে ইন্টারনেটে টাকা আয় করা যায়। ওইসময় oDesk এ ওয়েব ডিজাইন এবং এসইও তে কাজের মূল্য এবং চাহিদা বেশি ছিল। কোডিং দেখে ভয় পেতাম বলেই, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এসইও শিখবো।

কিন্তু এসইও বিষয়টার উপরে মনে প্রানে ইন্টারেস্টেড ছিলাম বলেই, সাহস করে শেখার জন্য ইচ্ছা করেছিলাম। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে মূল উদ্দেশ্য ছিল ফ্রীল্যান্স মার্কেট প্লেসে কাজ করা। কিন্তু ৩-৪ মাসের মাথাইয় oDesk একাউন্ট ব্যান খেয়ে ব্লগিং নিয়ে শেখা এবং প্র্যাকটিস শুরু করে দিলাম।

এখানেও লাগে এসইও। কেননা এসইও ছাড়া যেকোনো ব্লগিং সাইট একটা অচল পয়সা।

 

# শেখার জন্য কি কি দরকার হয়েছে ?

এটাতেই আমার ভুলের শেষ নাই। নিজের সকল ভুল কাজগুলো লিখতে গেলে ২০-৫০ টা কন্টেন্ট লিখলেও আমার ভুল লেখা শেষ হবে না। আজ শুধু কমপ্লিট গাইডলাইন এবং রিসোর্সগুলো শেয়ার করবো। যেগুলো পড়ে পড়ে আমি নিজে জেনেছি তারপরে প্র্যাকটিস করেছি (এখানেই ভুল বেশি)

চলুন ৫ বছর অতীতের পাতায় চোখ বুলিয়ে আসি। যে শিক্ষাগুলো আমার কাছে আজও স্মরণীয়।

 

২০১০ – ২০১৫ পর্যন্ত যেভাবে শেখার রিসোর্স পেয়েছিলামঃ

সত্যি কথা হচ্ছে ২০১০ সালে বুঝতাম না যে শেখার জন্য আসলে আমাকে কি শিখতে হবে। আসলে ওই সময় গুগল সার্চ করা শেখাটাই ছিল বড় শিক্ষা। মাথায় খালি চিন্তা টাকা টাকা আর হতাশা। মাঝে মাঝে পে টু ক্লিক সাইটের পিছনেও ৳ কামানোর নেশায় সময় নষ্ট করতাম 😛

 

যখন মাথায় মূল চিন্তা ভাবনা সেট হয়ে গেলো ব্লগিং করবো, তখন থেকেই এসইও শেখার ক্ষুধা বেড়ে গেলো। সারাদিন খালি এসইও এসইও – ব্যাকলিঙ্ক ব্যাকলিঙ্ক নিয়া থাকতাম। ওই সময় #পান্ডা #পেঙ্গুইন এলগোরিদম ছিল না বলেই, একটা ব্লগস্পট সাইটে হিউজ ব্যাকলিঙ্কস করেছিলাম।

কিছু দিন পরেই পিআর আপডেটের সময় দেখলাম ২ পেজ রেঙ্ক আসছে 😛 (2012 Penalized)

আসলে এগুলো ছিল স্পামিং। আজ বুঝি এসইও মানেই হাজার হাজার ব্যাকলিঙ্ক নয়

নিচের দিকে পাবেন ব্যাকলিঙ্কস হচ্ছে এসইও তে টপে যাওয়ার জন্য বড় ধরনের হাতিয়ার।

 

বাংলাদেশী কিছু এসইও সাইটের কথাঃ

# বাংলাদেশের প্রযুক্তির বিশাল সাইট টেকটিউন্স এর এসইও ক্যাটাগরি এমন কোন পোস্ট ছিল না যে ২০১১-২০১২ তে আমি পড়েছিলাম না।

# এক বন্ধুর মাধ্যমে আল-হেরা বিডি এসইও টিউটোরিয়াল পেয়েছিলাম। ২০১১ এর শেষের দিকে সেটাও শেখার জন্য নতুন অবস্থায় ভালোই কাজে লেখেছিল। ফরিদ আহমেদ ভাইয়ের এসইও টিউটোরিয়ালগুলো ১০ বারের বেশি দেখা হয়েছিলো।

# সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন টার্ম নামে একটা পোস্ট থেকে ২০১১ তে ওয়েব কোচ বিডি এসইও প্রেমে পরে গিয়েছিলাম।

# ওয়েব এসইও গাইড থেকে যা যা শিখেছিলাম সেটা বলার মতো ভাষা নাই। সজিব রহমান ভাইয়ের অসাধারণ লেখাগুলো আজও আমার চোখে ভাসে। আমার দেখা বাংলাতে শ্রেষ্ঠ এসইও ব্লগিং সাইট।

এসইও শিখতে চান? তাহলে ধাপে ধাপে নিয়ে নিন আগাম প্রস্তুতি

মূলত সজিব ভাইয়ের এই একটা লেখা থেকেই নভেম্বর ২০১১ তে ব্লগটার সাথে পরিচিত হয়েছিলাম 😀 আজও উনাকে ফলো করি।

# ২০১৩ তে তাহের চৌধুরী সুমন ভাইদের Earntricks.Com এর সকল এসইও আর্টিকেলগুলো রেগুলার পানির সাথে মিশাইয়া খাইতাম 😛

# ২০১৪ সালের শুরুতে সব থেকে বেশি হেল্প করা এসইও গুরু আমিনুর ভাইয়ের কাছে থেকেই লাস্ট ৪ বছরের ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। উনার কাছে আশ্রয় না পেলে হয়তো আজ আমি গুগল অ্যাডওয়ার্ডস সার্টিফাইড হতে পারতাম না।

(গুগল অ্যাডওয়ার্ডস সার্টিফাইড কিভাবে হয়েছি সেটা পরের কোন এক পার্টে লিখবো)

 # এসইও মেন্টরস হিসাবে প্রতিনিয়ত ফলো করতেছি আসিফ আনোয়ার পথিক ভাইকে।

(SEO নিয়ে Asif Anwar Pathik ভাইয়ের সাক্ষাৎকার)

 # আবুল কাশেম ভাইয়ের ব্লগ থেকে এমন অনেক কিছুই শিখতে পেড়েছিলাম। যেগুলো না জানলে কোনদিন নিজের কিছু এসইও মিস্টেক অজানা থেকে যেতো। চরম একটা গাইডলাইন দিয়েছেন উনি।

# বাংলার ট্যালেন্ট একজন এসইও অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ মানুষ তাফসের আহমেদ ভাইয়ের ব্লগেও ডিজিটাল মার্কেটিং গাইড অভাব নাই। সত্যিই লেখাগুলো বার বার পড়লেও মন ভরে না 😀

# এমডি একরাম ভাইয়ের লেখাগুলোও কিন্তু টিটি তে ২০১৩ সালে গোপনে গোপনে পড়ে গেছি। উনার সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টিপসগুলো সত্যিই অনেক কাজের ছিল।

# ব্লগিং, এসইও, অ্যাডসেন্স লাইফে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে একজন আপন মানুষ।

সে আমার বন্ধু, ভুল সংশোধনকারী, পরামর্শদাতা, কম্পিটিটর এবং HOSTSBS এর একজন ক্লাইন্ট >>> অন্যরকম মানুষ ভাই (বাঁশওয়ালা)

এসইও রিলেটেড আরও অনেক ব্লগ পড়েছি, সবগুলোই এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।
তবে সবাইকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই এবং আল্লাহ্‌র কাছে তাদের মঙ্গল কামনা করি।

ইন্টারন্যাশনাল কিছু সাইটের কথাঃ

মনে রাখবেন এসইও শিখতে এবং করতে গেলেই অবশ্যই আপনার ইংলিশ স্কিল ভালো করতে হবে। আমি এসব সাইট বিভিন্ন জানার জন্য কিংবা কোন সমস্যায় পরে গুগল সার্চ করতে করতেই পেয়েছিলাম।সত্যিই এই সাইটগুলো না থাকলে, সঠিক এবং পরিপূর্ণ এসইও কি জিনিশ বুঝতাম না।

The-Ultimate-Resource-for-Learning-SEO

যে ব্লগগুলো আমি ২০১০ থেকে আজও ফলো করিঃ

 # সার্চ ইঞ্জিন ল্যান্ড

# সার্চ ইঞ্জিন জার্নাল

# ব্যাকলিংকও (Brian Dean)

# নেইল পাটেল ব্লগ

# মজ

# কুইকস্রাউট

# সাউট-মি-লাউড

# প্র-ব্লগার

 

বিশ্বের যেসব এসইও দাদাদের ফোরামগুলোতে আমি আজও নিয়মিত পাঠকঃ

# ওয়াররিওর ফোরাম (পৃথিবীর #১ নাম্বার এসইও ফোরাম)

# ডিজিটাল পয়েন্ট ফোরাম

# ওয়েবমাস্টারওয়াল্ড

# ব্লাকহ্যাটওয়ার্ল্ড  (স্পেশাল ফর ব্ল্যাক হ্যাট এসইও)

# গুগল ওয়েব মাস্টার ফোরাম

# এসইও চ্যাট ফোরাম

# মজ কমিউনিটি

 

এসইও লার্নারদের জন্য সাজেশনঃ

নিজের চোখে দেখা কিছু প্রিয়  রিসোর্সগুলোই আপনাদেরকে সাজেশন হিসাবে দিচ্ছি।

এগুলো ফলো করলে এবং ধৈর্য ধরে কাজ করলে সফলতা আসতে বাধ্য।

best seo guide

Best SEO Guide:

 

 

পরিশেষে, এসইও তে আরও অনেক কিছুই আছে যেগুলো আমি আজও জানতে পারি নাই।

উপরে যে রিসোর্সগুলো শেয়ার করেছি, নিজের শেখার সেরা রিসোর্সগুলো থেকে, আপনাদের জন্য কালেক্ট করে এই পোস্ট ৫-৭ ঘন্টাতেই সাজিয়ে ফেললাম…

কিন্তু বাস্তব হচ্ছে উপরে রিসোর্সগুলো নিয়ে আপনি যদি স্টাডি করা শুরু করেন, তাহলে আগামী ৫-৭ বছরেও সকল সাইটের কন্টেন্ট পড়ে শেষ করতে পারবেন না।

এসইও শেখার জন্য মূলত ইম্পরট্যান্ট সাইটগুলোর পিছনে সময় দেওয়াটা ফোকাস করতে চেয়েছি। এসইও তে গভীরে প্রবেশ করার জন্য আপনার কি কি শিখতে হবে এখন সেটা আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে আপনি এসব রিসোর্স যদি ১-২ বছর নিয়মিত ফলো করে কাজ করেন। তাহলে অবশ্যই আপনার এসইও অভিজ্ঞতার সাধ পেয়ে যাবেন। এর মধ্যেই দেখবেন আপনার নিজের হাতে এসইও করা সাইট গুগল সার্চ ইঞ্জিনে সবার উপরে Rank করে ফেলবে। আপনি নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন আপনি পারবেন। এটাই আপনাকে এসইও সফলতার পথে পরিচালিত করবে। এসইও শিখতে সবচেয়ে বড় পুঁজি হচ্ছে ধৈর্য……

আজকের পোস্টে যেকোনো সমস্যা কিংবা পরামর্শ জানাতে, মন্তব্য করতে ভুলবেন না।

আজকের মতো সকলের সুস্থতা কামনা করে, আমার এসইও শেখার হিস্টোরি এই পর্যন্তই শেষ করতেছি। সবাইকে পরবর্তী পোস্ট (আমি কিভাবে ব্লগিং শিখে নিজের ক্যারিয়ার তৈরির পথে হাঁটছি) পার্ট দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ্‌ হাফেয..

3 thoughts on “আমি কিভাবে শিখেছি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ২০১০-২০১৫

  1. Pingback: আমি কিভাবে শিখেছি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) ২০১০-২০১৫ | Genesis Blogs

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *