ট্রেনিং সেন্টারে প্রতারিত হয়েও ২ বছরে ১০০০ ডলার কিভাবে আয় করেছি (আমির হোসেন)

আসসালামুয়ালাইকুম,

আমি মোহাম্মদ আমির হোসেন। খুব সাধারণ পরিবারের একজন মানুষ, রংপুরের কাউনিয়া থানার সাব্দী গ্রামে বসবাস করতেছি। (যেখানে নেই ঢাকা শহরের মতো হাই স্পীডের ইন্টারনেট) বর্তমানে Rangpur Carmicheal College এ অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ছি। কিন্তু আমার ইচ্ছা এবং স্বপ্নের প্রফেশন হচ্ছে ব্লগিং 🙂 হ্যাঁ আজ কিছু লিখতেছি আমার অনলাইন জীবনের ধরা খাওয়ার পর্ব শেষ করে, কিভাবে ব্লগিং ক্যারিয়ারে সফলতার মুখ দেখিতেছি।

প্রথমেই বলে নেই আমি এখানে কোনো মার্কেটিং করতে আসিনি এবং মানুষকে ইনকাম স্ক্রিনসট দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে আসি নাই। যদি কেউ মনে করেন কাজ শেখার টিপস দিতে এসেছি এটা বললেও ভুল হবে । এই লেখাটি শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা মনে করেন অনলাইনে খুব সহজেই আর্নিং করা যায়। লেখাটি স্পেশালি তাদের জন্য যারা অনলাইনে একেবারেই নতুন কিংবা কাজ শেখার ইচ্ছে নিয়ে বসে আছেন 😀

আসলে অনলাইনে আর্নিং করা যায় কথাটি শুনার পর থেকে অনেকের মধ্যে কাজ শিখার আগ্রহ দেখা যায়। যার জন্য আর্নিং করার পদ্ধতি (সটকার্ট উপায়) খোজাঁর মধ্যে বেশ কয়েকমাস অতিবাহিত হওয়া। অন্যদের ইনকাম স্ক্রিনসট নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা ! সঠিক উপায়ে কাজ নিয়ে (১)রিসার্স না করার ফলে অনেকেই ট্রেনিং সেন্টার, বড় ভাইদের (ধান্দাবাজ টাইপের) কাছ থেকে বাশঁ খেয়ে (সময়+টাকা) হতাশা নিয়ে কয়েক মাস পর বলে উঠে অনলাইনে ইনকাম হয় না, সবাই ধান্দা করে টাকা ইনকাম করে, অবৈধ্য কাজ ছাড়া ডলার আসে না আরও কতো কি !

তারপর….?

তারপরে অনেকেই কাজ শেখার আশা একেবারেই ছেড়ে দেন কেউবা আবার সফল মানুষদের দিকে তাকিয়ে বিভিন্নভাবে সফল হওয়ার জন্য ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়ে যান। এর মধ্যে কেউ না কেউ (সফল মানুষ) সাহায্যের হাত বাড়ায়। তারপর শুরু হয় কাজ শিখার আসল যুদ্ধ (অপেক্ষা শুধু সময়ের) এবার সাকসেস ঠেকায় কে ??

সফল মানুষদের হাত ধরে অনেকেই খুব দ্রুতো সফল হয় এর মধ্যেও কেউবা নিজেকে বেশি জ্ঞানী মনে করে যার ফলে সফলতা আরেটু দূরে চলে যায় 😉 আবারও শুরু হয় (২) রিসার্স (সঠিক উপায়) অবশেষে সাকসেস্ !!

হ্যাঁ ভাই!

আমিও গরীব মানুষ হয়ে অনলাইনে ডলার আয় করা শেখার আশায় গিয়েছিলাম চট্টগ্রামে এর একটা ট্রেনিং সেন্টারে। যেখানে উনারা হাজারো স্বপ্ন দেখিয়ে ভর্তি করলো, টাকা দিলাম আর খালি হাতে মন ভেঙ্গে ফিরে আসলাম। কেনোনা তারা নিজেরাই জানে কম, আমাদের আর কি শিখাবে ? ফেসবুকে গ্রুপ খুলে আমাদের মতো নিরীহ মানুষদের স্টুডেন্ট বানায়। আর মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়াটাই তাদের মূল পেশা। নামে বলে তাদের ইজ্জৎ নষ্ট করলাম না।

আর হল না আমার ব্লগিং, ফ্রিলান্সিং গুগল অ্যাডসেন্স শেখা। যা শিখেছিলাম, তা আর বলে লজ্জিত হতে চাই না।

অতঃপর হতাশার জীবন নিয়ে ফিরে আসলাম আবারো নিজের বাড়িতেই। ফেসবুকে দেখতে দেখতে হটাত কোথায় কিভাবে কোন এক গ্রুপে চোখে পড়লো একজন ফেইলারের স্টোরি এই লেখাটা পড়ার পরেই আবারো একটু একটু স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম। পেয়ে গেলাম আরও একটা ফেসবুক গ্রুপ যার নাম অ্যাডসেন্স এন্ড ব্লগিং

এতক্ষন যা বললাম এটা আমার বাস্তব অবিজ্ঞতা থেকে অনেকের সাথে কথাগুলোর মিল থাকতে পারে। যাই হোক যে সফল মানুষটি আমাকে বেশি সময় কাজের পিছনে হেল্প করতেন তিনি হলেন আমার শ্রদ্ধেয় ভাই রুবেল এস.বি.এস আমি যখন বিভিন্ন ভাবে অনলাইনে ধোঁকা খেয়ে আসতেছিলাম তখন রুবেল ভাই এবং অন্যরকম ভাই আমাকে সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনলেন। উনাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পেড়েছি। আরও অনেক কিছু শেখার আছে 😛 ফেইসবুকের অনেক বড় ভাইদের কাছ থেকে নানারকম হেল্প পেয়েছি। Adsense & Blogging ফেইসবুক গ্রুপের ডক ফাইলগুলো অনেকটা কাজে দিয়েছে। আরও একজন বড় ভাই আলমগীর এসবিএস ভাই আর্টিকেল লেখার ব্যাপারে উনার হেল্প অনেক বেশি 😀 আরও অনেক ভাইয়েরাই আছেন। আপনাদের কাছে আমি দোয়া চাই।

সবার নাম উল্লেখ করলাম না তাদের জন্য আমার মন থেকে ভালোবাসা আছে। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন (আমিন)। আর যে মানুষটি আমাকে আর্থিক, মানুষিক এবং বিভিন্ন ভাবে সাপোর্ট দিয়ে আসছেন তিনি হলেন আমার প্রাণপ্রিয় দুলাভাই সিরাজ ইসলাম।আপনারা আমার দুলাভাইয়ের জন্য মন থেকে দুআ করবেন যার জন্য আমি আজ সফলতার পথে হাটতে শিখেছি…

আমার কাজের ব্যাকগ্রাউন্ড …

শুরুটা হয়েছিলো নকিয়া ২৬০০ ক্লাসিক মোবাইল দিয়ে (২০১২ সালে)। তখন শুধু সাধারণভাবে নেট ব্রাউজিং করতাম আর Tanbir Ahmad ভাইয়ের ব্লগ সাইটের পিডিএফ বইগুলো পড়তাম। ফেইসবুক সম্পর্কে তখনও ধারণা ছিলো না। ভাইয়ের সাথে তখন মোবাইলে কথা হয়েছিলো এবং উনার কাছ থেকেই প্রথম শুনেছিলাম যে সত্যিই মানুষ ইন্টারনেট থেকে ইনকাম করতে পারে :roll: সেই থেকেই কাজ শেখার আগ্রহ বেড়ে যায় 😉 এক সময় আমি উনার খুব ভক্ত ছিলাম।

২০১২ সালের সেই অসাধারণ বাংলা ই-বুক কালেকশন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন। অনার্স ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ২ বছর ব্যাস্ত থাকার পর ..অবশেষে কাজ শেখার জন্য কম্পিউটার কিনি ডিসেম্বর ২০১৪তে 😐

https://web.facebook.com/amirhossain123/posts/488605124615694

এপ্রিল ২০১৫তে কাজ শিখতে চট্রগ্রামে গিয়ে কিছু সময়+টাকা লস করলাম 😥 সেই থেকে ট্রেনিং সেন্টারকে লাইক করি না 😎

৫ মাস ফাইবার+আপওয়ার্ক এ ঘুরা-ঘুরি করেও কোনো কাজের অর্ডার পাই নাই 😥

নিচের ফাইবার এবং আপওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট প্রোফাইলগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন।

fiverr join date

odesk profile.jpg

ফাইবার+অাপওয়ার্ক কোথাও কাজের অর্ডার না পেয়ে মাইক্রোওয়ারকার (MICROWORKERS) এ জয়েন করলাম । এখানে কাজ করলেই $ কাজের অর্ডারের জন্য অপেক্ষা করতে হতো না ! কয়েকদিন কাজ করে বুঝতে পারলাম এই ইনকাম দিয়ে সংসার চলবে না 🙂 এখানেও কিছু সময় অপচয় হলো ।

মাইক্রোয়ারকার আর্নিং ২০১৫তখন থেকে মার্কেট প্রেস কাজ শেখা বাদ দিয়ে ব্লগিং এ আসলাম । অ্যাডসেন্স সোণার হরিণ সহজে নাকি পাওয়া যায় না এই ধরনের কমেন্টগুলো আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়াতো । ভাবতাম অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট হলেই বুঝি অনলাইন থেকে সহজেই আর্নিং পাওয়া যায় । যেই ভাবা সেই কাজ অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করাতে না পারি কিনতে তো পাবো 🙂 ২ মাসের মধ্যে ২ টা অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট কিনি কিছুদিন না যেতেই গুগোলের সেই ভয়ানক ইমেল আসে ..! তখন বুঝতে পারলাম আমার দ্বারা অ্যাডসেন্স ইউজ করা সম্বভ না । অনলাইনে জানতে পারলাম অ্যাডসেন্স ছাড়াও নাকি ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম পাওয়া যায় ! আবার সাহস হলো.. কাজের গতি বাড়ালাম আসতে আসতে $ আশা শুরু হলো । আমি তখন ডেইলি .20 Cent এমন কি তারও কম ডলার পাইছি । নিচে অ্যাড কম্পানি গুলোর আর্নিং দেখলে বুঝতে পারবেন..

adsterra earning bdrevenuehits-earning popcash earning

আমার আর্নিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম কিন্তু যখন ফেইসবুকের বড় ভাইদের প্রতিদিনের ইনকাম 20 ডলার, ৫০ ডলার দেখতাম তখন আমার মাঝে আবারও হতাশা কাজ করা শুরু করে । সব কিছু বাদ দিয়ে আবার SEO শেখা শুরু করি ।

সেপ্টেম্বর ২০১৫তে নতুন একটি সাইট রান করি এবং ৩ মাস কাজ করে সাইটকে গুগলে র‌্যাঙ্ক করানোর পর কিছু $$ এর মুখ দেখি 😀 কারণবশত ওয়েবসাইটটি নিজ হাতে ডিলিট করে দেই 😕

not-found

শুরু হয় নতুন টপিক্স নিয়ে কাজ করার চেষ্টা .. ➡

অক্টোবর ২০১৫তে নতুন সাইট রান করি (টারগেট গুগল অ্যাডসেন্স)। অ্যাকাউন্ট পেতে অনেক ঝামেলা মনে হচ্ছিল যার জন্য অ্যাডসেন্স আল্টারনেটিভ কম্পানীর অ্যাডস + নতুন সাইট এ কাজ করে আবারও কয়েকটি মাস সময় অপচয় হলো। দীর্ঘ ৮ মাস পর জুন ২০১৬তে গুগোল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ পেয়েছি 😀

অ্যাকাউন্ট পাওয়ার পর মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকি, সব মিলিয়ে ১০০০+ ডলার পূর্ণ হোল। এবার নিয়ে আমার ৩য় বারের মতো টাকা উঠানো হবে। এতোদিন বাংলাদেশী ভিজিটরকে টারগেট করে কাজ করেছি যার ফলে $$ কম পেলেও কিছু বুঝতে পেরেছি 😎

অনলাইনে পরিচিতি অনেক বাঙ্গালী ভাইয়েরা মাসে হাজার হাজার ডলার আর্নিং করতেছেন। এটা তাদের কাছে কিছুই না 😛 😀 কিন্ত আমার কাছে এটা ভবিষ্যতে বড় কিছু কাজ করার জন্য এনার্জি!

এই মাস শেষে আমার Dream Project এ কাজ শুরু করতে যাচ্ছি 😎 আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

নতুনদের জন্য….

এর আগে ইনকামের চিন্তা করলে সফল হওয়ার চান্স খুবই কম 😛

amir-hossaing

aveave

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *